NEW SYLLABUS BASED ON NEP 2020
পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (BU-MDC2/CU-MD/CU-MJA5/WBSU-MJA6/KU-MI) শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক স্তরের সুনির্দিষ্ট, অভিন্ন পাঠক্রম অনুসারে রচিত একটি আদর্শ মানের বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ।
Book Title: নারী শিক্ষা (Women Education)
Authors: Ms. Moumita Mondal | Mr. Biplab Dey | Dr. Amit Adhikari
About the Authors:
Ms. Moumita Mondal
Deputy Director of Public Instruction, Bikash Bhawan, Salt Lake, Kolkata, West Bengal, India
Mr. Biplab Dey
Guest Lecturer (Education), Deuli Govt. P.T.T.I & Researcher, West Bengal State University, Barasat, North 24 Parganas, West Bengal, India
Dr. Amit Adhikari
State Aided College Teacher (SACT-Category -I), Head of Department of Education, Sankrail Anil Biswas Smriti Mahavidyalaya, Jhargram, West Bengal, India
Copyright Signature: By Authors ©
ISBN: 978-93-6008-721-0
( Paperback/ Softback) Edition -1
Rs:259/-
First Published on: 08/03/2026
Language: Multiple languages
Published by : AMITRAKSHAR PUBLISHERS
Kolkata -700068
Website: www.amitrakshar.co.in
Website link: https://www.amitrakshar.co.in/book
Email: amitraksharpublishers@gmail.com
Phone/ WhatsApp Number: 9735768900
মুখবন্ধ
বর্তমান যুগে শিক্ষা মানবসমাজের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন সমাজের সকল স্তরের মানুষ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নারী সমাজের অর্ধেক অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং সমাজ, পরিবার ও জাতি গঠনে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নারীকে শিক্ষিত করে তোলা মানেই একটি সুস্থ, সচেতন ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলা। এই উপলব্ধি থেকেই নারী শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান গ্রন্থ “নারী শিক্ষা (Women Education)” রচিত হয়েছে।
বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষত জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০ প্রবর্তনের মাধ্যমে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই নীতির আলোকে উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমেও বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক স্তরের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী নারী শিক্ষা বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যয়নের ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের উপযোগী ও মানসম্মত পাঠ্যসামগ্রী সরবরাহের উদ্দেশ্যে এই গ্রন্থটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই গ্রন্থটি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক স্তরের নির্দিষ্ট ও অভিন্ন পাঠ্যক্রম অনুসারে রচিত হয়েছে। বিশেষত BU-MDC2, CU-MD, CU-MJA5, WBSU-MJA6, KU-MI প্রভৃতি কোর্স কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়বস্তুকে সাজানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও উপকৃত হয়। বিষয়ের উপস্থাপনায় সহজ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রাসঙ্গিক উদাহরণ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়কে বোধগম্য করার চেষ্টা করা হয়েছে।
গ্রন্থটি প্রস্তুত করার সময় যথাসম্ভব নির্ভরযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক উৎস অনুসরণ করা হয়েছে। বিষয়ের উপস্থাপনায় মৌলিকতা রক্ষার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি iThenticate সফটওয়্যার-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেখানে 0% Overall Similarity রিপোর্ট পাওয়া গেছে (Submission ID: trn:oid::3117:568666791; Submission Date: Mar 18, 2026; Download Date: Mar 18, 2026)। এই ফলাফল গ্রন্থটির মৌলিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের সচেতন প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
গ্রন্থটি মোট পাঁচটি ইউনিটে বিভক্ত করা হয়েছে, যাতে বিষয়বস্তু সুসংগতিভাবে উপস্থাপন করা যায়।
প্রথম ইউনিটে নারী শিক্ষার মৌলিক ধারণা, অর্থ, প্রকৃতি, পরিধি ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজে নারীর ভূমিকা, সামাজিক ও পরিবেশ আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ, নারীর শিক্ষার প্রসারে শিক্ষকের ভূমিকা এবং নারীর স্বাস্থ্য ও সার্বিক সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অংশটি শিক্ষার্থীদের নারী শিক্ষার ভিত্তিগত ধারণা গঠনে সহায়ক হবে।
দ্বিতীয় ইউনিটে নারী শিক্ষার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। প্রাচীন, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগে নারী শিক্ষার অবস্থা, ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা এবং স্বাধীনতার পর বিভিন্ন কমিশন ও কমিটির মাধ্যমে নারী শিক্ষার বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষভাবে রাধাকৃষ্ণন কমিশন, মুদালিয়ার কমিশন, কোঠারি কমিশন, জাতীয় শিক্ষা নীতি ১৯৮৬ এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর আলোচনার মাধ্যমে নারী শিক্ষার অগ্রগতির ধারাকে তুলে ধরা হয়েছে।
তৃতীয় ইউনিটে ভারতে নারীর অধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানে নারীর সমতা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও আইনি বিধান রয়েছে, তা এখানে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও সম্পত্তির অধিকার, আইনি অধিকার এবং নারীর সুরক্ষার জন্য প্রণীত বিভিন্ন আইন যেমন গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইন, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে।
চতুর্থ ইউনিটে নারী ক্ষমতায়নের ধারণা, গুরুত্ব, প্রকারভেদ এবং নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা ও আধুনিক সমাজে নারী ক্ষমতায়নের ভূমিকা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে।
পঞ্চম ইউনিটে ভারতীয় চিন্তাবিদদের নারী শিক্ষা প্রসারে অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। রাজা রামমোহন রায়, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও স্বামী বিবেকানন্দের মত মহান চিন্তাবিদদের কর্ম ও ভাবনার মাধ্যমে নারী শিক্ষার প্রসারে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হয়েছে, তা এখানে আলোচিত হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় উন্নয়ন ও নারী শিক্ষা এবং নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিটি ইউনিটের শেষে শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের সুবিধার্থে সম্ভাব্য প্রশ্নাবলী সংযোজন করা হয়েছে, যাতে তারা বিষয়টির উপর সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।
আমরা আশা করি এই গ্রন্থটি শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, গবেষক এবং নারী শিক্ষা বিষয়ক আগ্রহী পাঠকদের কাছেও এটি উপযোগী হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
এই গ্রন্থ প্রণয়নের ক্ষেত্রে যেসব গ্রন্থ, গবেষণা প্রবন্ধ এবং অন্যান্য উৎস আমাদের সহায়তা করেছে, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। পাঠকবর্গের কাছে আমাদের একান্ত আবেদন—গ্রন্থটির কোনো ত্রুটি বা অসঙ্গতি আপনার দৃষ্টিগোচর হলে আমাদের অবহিত করবেন। আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ ভবিষ্যতে গ্রন্থটির সংশোধন ও পরিমার্জনে সহায়ক হবে।