NEW SYLLABUS BASED ON NEP 2020
পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (VU/CU/KU/WBSU/NSOU/BU/) শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের সুনির্দিষ্ট, অভিন্ন পাঠক্রম অনুসারে রচিত একটি আদর্শ মানের বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ
Book Title: ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাস (History of Education in India)
Authors: Dr. Debasish Das | Dr. Palas Kumar Saha | Mr. Biplab Dey | Debasmit Kundu
About the Authors
Dr. Debasish Das
Principal , Surendra Lal Das Teachers' Training College, Howrah , West Bengal, India
Dr. Palas Kumar Saha
Assistant Professor, Department of Archaeology and Ancient Indian Culture. Tripura University (A Central University), Suryamaninagar,
Agartala, Tripura, India
Mr. Biplab Dey
Guest Lecturer (Education), Deuli Govt. P.T.T.I & Researcher, West Bengal State University, Barasat, North 24 Parganas, West Bengal, India
Debasmita Kundu
Assistant Professor , Idan Teachers Training College, Panskura, Purba Medinipur, West Bengal, India
Copyright Signature: By Authors ©
ISBN: 978-93-6008-168-3
( Paperback/ Softback) Edition -1
Rs:299/-
First Published on: 09/05/2026
Language: Multiple languages
Published by : AMITRAKSHAR PUBLISHERS
Kolkata -700068
Website: www.amitrakshar.co.in
Website link: https://www.amitrakshar.co.in/book/
Email: amitraksharpublishers@gmail.com
Phone/ WhatsApp Number: 9735768900
মুখবন্ধ
ভারতবর্ষের শিক্ষা-ইতিহাস কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষানীতি বা পাঠ্যক্রমের বিবর্তনের ইতিহাস নয়; এটি ভারতীয় সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম, রাজনীতি ও জাতীয় জীবনের বিকাশের এক সুদীর্ঘ ও বহুমাত্রিক দলিল। প্রাচীন বৈদিক যুগের গুরুকুল শিক্ষা থেকে শুরু করে বৌদ্ধ মহাবিহার, মধ্যযুগের মক্তব ও মাদ্রাসা, ঔপনিবেশিক যুগের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের শিক্ষানীতি ও সংস্কার—প্রতিটি পর্যায় ভারতীয় শিক্ষার গতিপথকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। শিক্ষা সর্বদাই সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে এবং যুগে যুগে মানুষের জ্ঞান, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমান সময়ে শিক্ষক-শিক্ষা, শিক্ষাবিজ্ঞান এবং ইতিহাসভিত্তিক শিক্ষাচর্চার ক্ষেত্রে “History of Education” বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান রূপকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে হলে তার ঐতিহাসিক ভিত্তি, বিকাশের ধারা এবং বিভিন্ন যুগে সংঘটিত শিক্ষাগত পরিবর্তনসমূহ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অপরিহার্য। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এই গ্রন্থটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষত শিক্ষক-প্রশিক্ষণ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনা করে বিষয়বস্তুকে সহজ, সুসংগঠিত এবং পাঠ্যক্রমভিত্তিক আকারে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই গ্রন্থের প্রথম ইউনিটে প্রাচীন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বৈদিক, ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধ শিক্ষার উদ্দেশ্য, পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ-পদ্ধতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নারীশিক্ষা এবং তাদের মূল্যায়নের বিষয়গুলি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই তিন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা শিক্ষার্থীদের প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করবে।
দ্বিতীয় ইউনিটে মধ্যযুগীয় ভারতের শিক্ষা আলোচিত হয়েছে। ইসলামিক শিক্ষার উদ্দেশ্য, পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ-পদ্ধতি, মক্তব ও মাদ্রাসার ভূমিকা, নারীশিক্ষা এবং মধ্যযুগীয় শিক্ষার গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুলতানি ও মুঘল যুগের শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান, বিশেষত আলাউদ্দিন খিলজি, ফিরোজ শাহ তুঘলক, আকবর ও ঔরঙ্গজেবের শিক্ষানীতিগত কার্যকলাপ আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তৃতীয় ইউনিটে উনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসকে কেন্দ্র করে ঔপনিবেশিক শিক্ষানীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে। চার্টার অ্যাক্ট (১৮১৩), প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব, মেকলে মিনিট, অ্যাডাম’স রিপোর্ট, উডস ডেসপ্যাচ এবং হান্টার কমিশনের সুপারিশ ও শিক্ষাগত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গীয় নবজাগরণ, শ্রীরামপুর ত্রয়ী এবং রাজা রামমোহন রায়, হেনরি ডিরোজিও ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
চতুর্থ ইউনিটে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে (১৯০১–১৯৪৭) ভারতীয় শিক্ষার বিকাশধারা তুলে ধরা হয়েছে। লর্ড কার্জনের শিক্ষানীতি, শিমলা সম্মেলন, বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন, স্যাডলার কমিশন, হার্টগ কমিটি, বুনিয়াদি শিক্ষা বা ওয়ার্ধা স্কিম, সার্জেন্ট পরিকল্পনা এবং জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য, প্রভাব ও সীমাবদ্ধতা বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়গুলি জাতীয়তাবাদী চেতনা ও শিক্ষার সম্পর্ক অনুধাবনে বিশেষ সহায়ক হবে।
পঞ্চম ইউনিটে স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কমিশন ও কমিটিগুলির কার্যক্রম, সুপারিশ এবং সমালোচনামূলক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন, মাধ্যমিক শিক্ষা কমিশন, ভারতীয় শিক্ষা কমিশন (কোঠারি কমিশন), জাতীয় নলেজ কমিশন, যশপাল কমিটি, শিক্ষক শিক্ষার জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো এবং জাস্টিস ভার্মা কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগসমূহের আলোচনার মাধ্যমে স্বাধীন ভারতের শিক্ষার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে।
ষষ্ঠ ইউনিটে আধুনিক শিক্ষানীতি, কর্মসূচি ও শিক্ষাগত সংস্থাসমূহের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ১৯৬৮, ১৯৮৬, ১৯৯২-এর কর্মপরিকল্পনা এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর উদ্দেশ্য, কাঠামো, পাঠক্রম, শিক্ষক-শিক্ষা, নারীশিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি CABE, RTE Act, SSA, RUSA, RMSA, DIET, CTE, SCERT, NCERT, NCTE, UGC, NAAC এবং NUEPA-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত সংস্থার গঠন, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী আলোচনা করা হয়েছে। জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো, ECCE এবং DPEP সম্পর্কিত বিষয়গুলিও এই ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সপ্তম এবং শেষ ইউনিটে ভারতীয় শিক্ষার বর্তমান প্রবণতা ও সমসাময়িক বিষয়সমূহ আলোচিত হয়েছে। MOOCs, SWAYAM, SWAYAM PRABHA, মুক্ত ও দূরশিক্ষা, NIOS, IGNOU, DIKSHA, মুক্ত বইভিত্তিক পরীক্ষা এবং শিক্ষার সুযোগের সমতাকরণ, বৃত্তিমুখীকরণ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মাধ্যমে সমকালীন শিক্ষাব্যবস্থার রূপ ও বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।
এই গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য ছিল বিষয়বস্তুকে সহজবোধ্য, তথ্যসমৃদ্ধ, পাঠ্যক্রমনির্ভর এবং পরীক্ষোপযোগী করে উপস্থাপন করা। প্রতিটি অধ্যায়ে প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক তথ্য, শিক্ষাগত বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নমূলক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতিই নয়, শিক্ষার ইতিহাস সম্পর্কে গভীর ও সমালোচনামূলক জ্ঞান অর্জন করতে পারে। প্রতিটি ইউনিটের শেষে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক অনুশীলনী সংযোজন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মমূল্যায়ন, পুনরাবৃত্তি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। আমাদের বিশ্বাস, এই অনুশীলনীগুলি বিষয়বস্তুর গভীর উপলব্ধি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
গ্রন্থটি প্রস্তুত করার সময় যথাসম্ভব নির্ভরযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক উৎস অনুসরণ করা হয়েছে। বিষয়ের উপস্থাপনায় মৌলিকতা রক্ষার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। iThenticate-এর প্লেজিয়ারিজম পরীক্ষায় গ্রন্থটির Overall Similarity 0% পাওয়া গেছে (Submission ID: trn:oid::3117:594140163; Submission Date: May 24, 2026, 9:54 AM GMT+5:30)। রিপোর্টে ১১ শব্দের কম মিল (Small Matches less than 10 words) এবং ইন্টারনেট উৎসসমূহ (Internet Sources) ফিল্টার করা হয়েছে। এছাড়াও Integrity Review-এ কোনো সন্দেহজনক টেক্সট ম্যানিপুলেশনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই ফলাফল গ্রন্থটির মৌলিকতা ও স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি মানসম্মত ও গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থ রচনা করা, যা শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যক্রমভিত্তিক সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও আগ্রহ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা, “History of Education” গ্রন্থটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষানুরাগী সকলের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়ক পাঠ্য হিসেবে সমাদৃত হবে। ভারতীয় শিক্ষার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থ সামান্য হলেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে—এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।