অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি (Inclusive Education: A Holistic Approach)
NEW SYLLABUS BASED ON NEP 2020
পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (NSOU/VU/CU/KU / WBSU/) শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের সুনির্দিষ্ট, অভিন্ন পাঠক্রম অনুসারে রচিত একটি আদর্শ মানের বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ
Book Title: অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি (Inclusive Education: A Holistic Approach)
Authors: Dr. Parimal Sarkar | Mr. Biplab Dey | Debasmita Kundu 
About the Authors 
Dr. Parimal Sarkar
Assistant Professor, School of Education, Netaji Subhas Open University, Kalyani Regional Centre, Kalyani, Nadia, West Bengal, India
Mr. Biplab Dey
Guest Lecturer (Education), Deuli Govt. P.T.T.I & Researcher, West Bengal State University, Barasat, North 24 Parganas, West Bengal, India
Debasmita Kundu
Assistant Professor, Idan Teachers Training College , Paschim Nekra, Panskura, Purba Medinipur, West Bengal, India
Copyright Signature: By Authors © 
ISBN: 978-93-6008-596-4
( Paperback/ Softback) Edition -1
Rs:299/-
First Published on: 26/01/2026
Language: Multiple languages 
Published by : AMITRAKSHAR PUBLISHERS
Kolkata -700068
Website: www.amitrakshar.co.in
Website link: https://www.amitrakshar.co.in/book/
Email: amitraksharpublishers@gmail.com
Phone/ WhatsApp Number: 9735768900
মুখবন্ধ
বর্তমান যুগে শিক্ষা কেবল জ্ঞানার্জনের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি মানবিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতার ভিত্তিতে একটি উন্নত সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় তাই শিক্ষাকে সকলের জন্য উন্মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা (Inclusive Education) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে এবং তাদের সমক্ষা, প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতার পার্থক্যকে সম্মান জানিয়ে একই শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে।
ভারত সরকার প্রণীত জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ (NEP 2020)-এ শিক্ষার সর্বজনীনতা, সমতা এবং অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নীতির আলোকে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়া, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়—যেমন NSOU, VU, CU, KU এবং WBSU—এর শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের অভিন্ন পাঠ্যক্রমেও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে “অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রন্থটি রচিত হয়েছে। গ্রন্থটি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠক্রম অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সহজ ভাষায় বিষয়টি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।
গ্রন্থটিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ধারণা, তথ্য, প্রয়োগ এবং নীতি—এই চারটি দিককে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈচিত্র্য, প্রতিবন্ধকতা ও অক্ষমতার ধারণা, অন্তর্ভুক্তি ও বহির্ভূতকরণের পার্থক্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রেণিকক্ষের বৈশিষ্ট্য, শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতির অভিযোজন, সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিদ্যালয় ও সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং নেতৃত্বের গুরুত্ব—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে।
গ্রন্থটির প্রথম ইউনিটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈচিত্র্যের ধারণা এবং অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতি, Universal Design for Learning (UDL), সহযোগী ও অভিযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তৃতীয় ইউনিটে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদ্যালয় ও সম্প্রদায় গঠনের উপায় এবং সহায়ক যুক্তির ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। তদুপরি ইউনিটে নেতৃত্ব এবং বিদ্যালয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পঞ্চম ইউনিটে বিশেষ শিক্ষার ধারণা, ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা আলোচনা করা হয়েছে। শেষ ইউনিটে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার বাস্তবায়ন, শিক্ষকের ভূমিকা এবং অতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত মূল্যায়নের বিষয়গুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই গ্রন্থটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—প্রতিটি ইউনিটের শেষে প্রয়োগভিত্তিক অনুশীলনী সংযোজন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তুকে সহজে অনুধাবন করতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ও সহায়তা পায়। একই সঙ্গে বিষয়গুলোকে সহজ, স্পষ্ট এবং প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে পাঠকরা তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং বাস্তব প্রয়োগ—উভয় ক্ষেত্রেই উপকৃত হন।
গ্রন্থটি প্রস্তুত করার সময় যথাসম্ভব নির্ভরযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক উৎস অনুসরণ করা হয়েছে। বিষয়ের উপস্থাপনায় মৌলিকতা রক্ষার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি iThenticate সফটওয়্যার-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেখানে 1% Overall Similarity রিপোর্ট পাওয়া গেছে। (Submission ID: trn:oid::3117:569742578, Submission Date: Mar 21, 2026, 9:17 PM GMT+5:30, Download Date: Mar 22, 2026, 11:14 AM GMT+5:30, File Name: Inclusive Edu Book.pdf) এই ফলাফল গ্রন্থটির মৌলিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের সচেতন প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
আমরা বিশ্বাস করি যে এই গ্রন্থটি শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গবেষকদের জন্য একটি কার্যকর সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ধারণাকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং সমাজে সমতা ও সহমর্মিতার চর্চা বাড়াতে এই গ্রন্থটি একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
গ্রন্থটি রচনার সময় বিভিন্ন গ্রন্থ, গবেষণা নিবন্ধ এবং নীতিমালার সাহায্য নেওয়া হয়েছে। যাঁদের চিন্তা ও গবেষণা আমাদের এই কাজকে সমৃদ্ধ করেছে, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এছাড়াও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত সকলের সহযোগিতা ও উৎসাহের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
এই গ্রন্থের কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা আমাদের অনিচ্ছাকৃত। পাঠক, শিক্ষক ও গবেষকদের গঠনমূলক পরামর্শ ভবিষ্যৎ সংস্করণকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো—“সকলের জন্য শিক্ষা এবং শিক্ষার মাধ্যমে সকলের ক্ষমতায়ন।” এই লক্ষ্য অর্জনের পথে এই গ্রন্থটি যদি সামান্যও সহায়ক হয়, তবে আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

DOI Link : ISBN: 978-93-6008-596-4